দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা, তা মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার পৌঁছেছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পুনঃতফসিলের বিভিন্ন সুবিধা থাকলেও তার পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। অনেক ঋণগ্রহীতা এখনো পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করেননি, বরং গ্রেস পিরিয়ডে রয়েছেন, যার ফলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে না।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ শ্রেণিকরণ ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক ব্যাংক নিজ উদ্যোগেই আগেভাগে ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি এবং ঋণ আদায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তারা জোর দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

প্রাইমটিভি/এনজি