এক নজরে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বাজেট

প্রতীকী ছবি
স্বাধীনতার পর শূন্য কোষাগার, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেই বাস্তবতায় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন দেশের প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। সদ্য স্বাধীন দেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা সংশয় থাকলেও তার উপস্থাপিত প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা।
বর্তমান অর্থনীতির পরিসরে সেই অঙ্ক একটি মাঝারি আকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনায়ও কম। তবে গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে অর্থনীতির সম্প্রসারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং সরকারি ব্যয়ের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় বাজেটের আকারও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের বাজেট এখন ৯ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে মোট ৫৪টি জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন ১৪ জন অর্থমন্ত্রী ও অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা। সবচেয়ে বেশি ১২টি করে বাজেট পেশ করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন প্রয়াত দুই অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ছয়টি এবং আ হ ম মুস্তফা কামাল পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন। অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাজেটও আকার, গুরুত্ব ও প্রভাবের দিক থেকে ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।
তবে দেশের ইতিহাসে উপস্থাপিত সব বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ হয়নি। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন বাস্তবতায় মোট ১৪টি বাজেট সংসদের বাইরে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে স্বাধীনতার পর প্রথম আটটি বাজেট পেশ করা হয়েছিল তৎকালীন পুরোনো সংসদ ভবনে, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া সামরিক শাসন ও উপদেষ্টা সরকারের সময় আরও ছয়টি বাজেট সংসদের বাইরে উপস্থাপন করা হয়।
ইতিহাসে কয়েকজন অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা সরাসরি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাজেট ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জিয়াউর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
এদিকে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তার প্রথম বাজেট। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আসছে নতুন বাজেট।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি নীতিগত দলিল। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









