প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু

ছবি- সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে প্রস্তাবিত এ বাজেট দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আয়কর, মুনাফা ও মূলধনী মুনাফার ওপর কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে। বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে ১০টি অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
‘১০০ টাকার বাজেট’ কীভাবে ব্যয় হবে
প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে। এছাড়া ভর্তুকি ও প্রণোদনায় ১৭ টাকা, সাহায্য ও মঞ্জুরিতে ১৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং বেতন-ভাতায় ১৪ টাকা ৪০ পয়সা ব্যয় হবে।
পণ্য ও সেবা খাতে ৯ টাকা, অপ্রত্যাশিত ও অন্যান্য ব্যয়ে ৬ টাকা ৪০ পয়সা, পেনশনে ৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং শেয়ার ও ইক্যুইটিতে ৫ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদ পরিশোধ এবং ভর্তুকি খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় আগামী অর্থবছরেও সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









