ফরিদা জালাল ১৯৪৯ সালে ভারতের নয়া দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে বেড়ে ওঠেন। তিনি ১৯৬০ সালের দিকে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। তিনি মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক টেলেন্ট হান্ট কর্তৃক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

ফরিদা জালাল ভাটকালের অভিনেতা তাবরেজ বরমভারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির ইয়াসিন নামে এটি সন্তান রয়েছে। তিনি তার স্বামীর সাথে "জীবন রেখা" নামক চলচ্চিত্রের কাজের সময়ে প্রথম পরিচিত হন এবং তারা একে আপরের প্রেমে পড়েন। এরপর ১৯৭৮ সালে নভেম্বরে তারা বিবাহ করেন। বিয়ের পরে প্রাথমিকভাবে তিনি অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব পাননি, যার ফলে তার স্বামীর একটি সাবান কারখানা ব্যবসা সামলাতে বেঙ্গালুরুতে পাড়ি জমান।

তিনি তার অভিনয়ের জীবনে নানা রকম চরিত্রে অভিনয় করেন। মমতাময়ী মা, কখনও আদরের বোন, আবার কখনও দুষ্টু-মিষ্টি দাদিমা। প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও নিজের মেধা ও গুণে হয়ে উঠেছেন ইন্ডাস্ট্রির অপরিহার্য মুখ। তিনি বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী ফরিদা জালাল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। সেখানে ক্যারিয়ারের সাফল্যের চেয়েও কাজের মাধ্যমে অর্জিত সম্মানকে বড় করে দেখিয়েছেন তিনি। ফরিদা জালাল বলেন, ‘আমি সবসময় একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সীমানা অতিক্রম না করেও আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি, দর্শক আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছেন। তাহলে কি আমাকে সফল বলা যায় না?

নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুই নির্মাতা করণ জোহর ও আদিত্য চোপড়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফরিদা। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তার ক্যারিয়ারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।টাকা উপার্জনের চেয়ে নীতি ও সম্মানের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আসলে ভালো বা খারাপ সব পথেই টাকা উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু সম্মান এবং মর্যাদা সহজে পাওয়া যায় না। এর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আদিত্য চোপড়া অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং করণ জোহর আমার ছেলের মতো। আমি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সেসব কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও এখন আমি মাঝেমধ্যে অভিযোগ করি যে, আমাকে আরও বেশি কাজ দেওয়া হয় না কেন।