নতুন করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস ভবনের সামনে উত্তাল বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সাবেক সেনাসদস্যরা। সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসির ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এই বিক্ষোভে স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানানো হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

সাবেক সেনাসদস্যদের সংগঠন অ্যাবাউট ফেস (About Face)-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। সাবেক এই সৈন্যদের মূল দাবি হলো—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান যুদ্ধ নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরু বা থামানোর চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত এবং জনপ্রতিনিধিদের উচিত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে প্রতিহত করা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক সেনাসদস্য অতীতের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতিকে বৈধতা দিতে আজ ঠিক সেই ধরনের অজুহাত ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ২০ বছর আগে ইরাক যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল। আমরা আর কোনো মিথ্যে অজুহাতে রক্ত ঝরতে দেখতে চাই না।

বিক্ষোভ চলাকালে এক পর্যায়ে সাবেক সেনারা কংগ্রেস ভবনের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিলেও তারা দাবিতে অনড় থাকেন। এরপর পুলিশ বলপ্রয়োগ শুরু করে এবং অন্তত ৬০ জনকে আটক করে। এই ঘটনার পর ক্যাপিটল হিল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

বিক্ষোভে শুধু সাবেক সেনাসদস্যরাই নন, বর্তমানে কর্মরত সেনাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে আরও অসংখ্য প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ সাবেক সেনাদের এমন প্রকাশ্যে প্রতিবাদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ নীতির ওপর এক ধরণের বাড়তি চাপ তৈরি করবে।