ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা অবসান চুক্তিকে ‘বড় অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি বলেছে, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের অবসানের পথ তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারক যুদ্ধের বিভিন্ন ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, ব্যাপক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তারা এই অর্জনের কৃতিত্ব ইরানি জনগণের দৃঢ়তা, ত্যাগ এবং নেতৃত্বকে দিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সব ধরনের শত্রুতা চিরতরে বন্ধ করার’ লক্ষ্যে একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় লেবাননও রয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরিও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা লেবাননকে চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।

তবে হিজবুল্লাহ বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেবল শুরু। লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল মুক্ত করা এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিজ বাড়িতে ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে গোষ্ঠীটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে রয়টার্সকে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি ঘোষণার পর থেকে তারা কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালায়নি। তবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ইসরাইল কতটা তা মেনে চলে, তার ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাইমটিভি/এনজি