মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রপতি, জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মদর্শন

শহীদ জিয়াউর রহমান । সংগৃহীত
৩০ মে, ১৯৮১। দেশের মানুষ জানত তাদের রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। কিন্তু কেউ জানত না, এটাই হবে তার জীবনের শেষ রাত। ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী সদস্যদের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ। রাস্তায় নেমে আসে লাখো মানুষ। সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব শোকের মিছিল।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর সেনানায়ক জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলায় যখন জাতি দিশেহারা, তখন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালিকে প্রতিরোধ যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এক নম্বর সেক্টর এবং জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এগারো নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড জেড ফোর্স ।
সামরিক কর্মকর্তা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র চার বছরের শাসনামলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, গ্রামীণ উন্নয়ন, বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং দেশের বিভিন্ন থানায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তিনি।
বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি। যা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার আদর্শ ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আলোচিত ও প্রভাবশালী নাম। তার কর্ম, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রগঠনে অবদান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




