৭০০ কোটি টাকার ঋণের অভিযোগ প্রমাণ হলে মেডেল দেব: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান । সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে অর্থায়নের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেডেল দেবেন।
মঙ্গলবার ( ৯ জুন) জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাব দেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি কোনো দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে সরাসরি নাম বলাই উচিত।
ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যও নাকচ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আরডিএস কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রকল্প নয়। এ স্কিমের অর্থ কোনো দলের তহবিলে গেছে এমন অভিযোগেরও প্রমাণ দাবি করেন তিনি।
ব্যাংকটির মালিকানা ও শেয়ার হস্তান্তর প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি করে আগের শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, যাদের কাছ থেকে শেয়ার নেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে সসম্মানে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
ইসলামী ব্যাংককে দেশের মানুষের ব্যাংক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যাংকের গ্রাহক বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মের মানুষ। ব্যাংকটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতির পেছনে তাদের ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও এস আলমের অপকর্মে সহযোগিতার অভিযোগ তোলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার আইন ও বিধি মেনে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করলে জামায়াত তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকে আমানতকারীরা ইতোমধ্যে অর্থ উত্তোলনে ভোগান্তির মুখে রয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








