ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে এবং ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রী পরীমনির বাসভবনে গোলাম সাকলায়েনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুনে। ওই সময় সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন গোলাম সাকলায়েন।

তদন্ত চলাকালে পরীমনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগে গোলাম সাকলায়েনকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তদন্ত চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত ও বিভাগীয় পর্যালোচনার পর অবশেষে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

প্রাইমটিভি/কেআর