সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায় জামায়াত

ছবি- সংগৃহীত
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধানের সংস্কার, শুধুমাত্র সংশোধন নয়। তাই সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠন করা হলে তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তার দল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের লবিং অ্যান্ড ডাইনিং (এলডি) হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই। তবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হলে আমরা তা বিবেচনা করব।”
তিনি দাবি করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংস্কার জনগণের দাবি। আমরা সেই দাবি থেকে সরে আসব না এবং সরে যাওয়ার কোনো অধিকারও আমাদের নেই।”
বর্তমান সংসদকে ‘সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতার সংসদ’ বলা যায় কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করা এবং প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সমালোচনা করাই একটি কার্যকর বিরোধী দলের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “আমরা সংসদে এমন কোনো আচরণ করব না যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ আমাদের সংসদে পাঠিয়েছে তাদের কথা বলার জন্য।”
তবে বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে পারে বলেও জানান তিনি। যদিও দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের পথে না যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দল থেকে নোটিশ দেওয়া হলেও তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল।”
সংসদে তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, পুঁজিবাজারের সংকট এবং প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে তারা সংসদে কথা বলেছেন।
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা হলেও দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতি মিনিট সংসদ পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। তাই ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং অযথা প্রশংসা-স্তুতিতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









