নারী ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে নারী ক্রিকেট দল। ঐতিহাসিক এই সিরিজকে সামনে রেখে স্বাগতিক পাকিস্তান নারী দল তাদের ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

আগামী ৪, ৬ এবং ৯ মে করাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলো আইসিসি মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই তালিকায় পাকিস্তান পঞ্চম এবং জিম্বাবুয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর একই ভেন্যুতে ১২, ১৪ এবং ১৫ মে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে পাকিস্তান দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ স্পিনার মোমিনা রিয়াসাত। ২০২৬ সালের ঘরোয়া মহিলা টি-টোয়েন্টিতে ৯ ইনিংসে ১৬টি উইকেট এবং ওয়ানডে কাপে ৮ ইনিংসে ১৯টি উইকেট শিকার করে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত ইকোনমি রেট পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জিম্বাবুয়ে দল ২৯শে এপ্রিল করাচিতে পৌঁছাবে এবং ৩০শে এপ্রিল থেকে ৩রা মে পর্যন্ত অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এই সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য কেবল ঘরের মাঠে জয়ের লক্ষ্যে নয়, বরং আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচির বড় প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়াই শেষ করেই পাকিস্তান দল আয়ারল্যান্ডে যাবে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলতে, যেখানে অন্য দুটি দল হলো আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজগুলো পাকিস্তানের জন্য নিজেদের ঝালাই করে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের গ্রুপ ১-এ পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজটি বিশ্বকাপের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাকিস্তানের স্বাগতিকদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।