পাকিস্তানকে বিশ্বে কোণঠাসা করতে গিয়ে বিপাকে ভারত

ছবি- সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার যে কৌশল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্রহণ করেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা উল্টো ফল দিচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমানে পাকিস্তান চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় অবস্থানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকলেও ভারতের অবস্থান কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণগুলোতে বলা হচ্ছে।
কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে অতীতের সামরিক উত্তেজনা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিভিন্ন সময়ের সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দেখা গেছে। অন্যদিকে ভারত তার পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো (সার্ক) কার্যকর না থাকায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেরই সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ভারত ও পাকিস্তানকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথেই ফিরতে হবে। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি টেকসই হবে না বলেও তারা মত দেন।
তাদের মতে, অতিরাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক বক্তব্য ও কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে পারস্পরিক সংলাপ ও আস্থা পুনর্গঠনই ভবিষ্যৎ উত্তেজনা কমানোর একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









