৭ দিনে আটক ৪০০ 'বাংলাদেশি', চলছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া

ফাইল ছবি
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য চালু হওয়া হোল্ডিং সেন্টারের কার্যকারিতা শুরুর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ৪০০ জন কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আটক করেছে রাজ্য প্রশাসন। আটককৃতদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৩১ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
রাজ্য প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মানুষ আটক হয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট পুলিশ জেলায়। সেখানে এককভাবেই ৩৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষনগরের বন্যা ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে।
বসিরহাট ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলা থেকেও বেশ কিছু সংখ্যক মানুষকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
আটক কেন্দ্র বা হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আটককৃতদের সনাক্তকরণ এবং প্রত্যাবাসন (ফেরত পাঠানো) প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে কেরালায় কর্মরত চার বাংলাদেশি শ্রমিকও রয়েছেন, যারা গত ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে পারাপারের সময় ধরা পড়েন। পরে তাদের উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
আটক হওয়া যুবকদের একজন, মতলেব হোসেন, টেলিফোনে গণমাধ্যমকে জানান, "গতকাল আমাদের আঙুলের ছাপসহ সব ধরনের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। বিএসএফ কর্মকর্তারা আমাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন—আমরা কীভাবে ভারতে ঢুকেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি। আমরা সব সত্যি তথ্য তাদের জানিয়েছি।"
হোল্ডিং সেন্টার চালুর পর রাজ্য প্রশাসনের এমন সাঁড়াশি অভিযানের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রাইম রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









