এক বছরের কম বয়সী শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত নয়

ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বহু পরিবারে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর প্রচলন অনেক পুরোনো। অনেকেই মনে করেন দুধ একটি সম্পূর্ণ সুষম খাবার। তাই ছোট শিশুদের দুধের পাশাপাশি ছানা, দই, ক্ষীর বা পনিরও দেওয়া হয় নিয়মিত। পুষ্টিগুণের দিক থেকে দুধ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস, যা হাড় ও দাঁতের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুধে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরকে সহজেই এই খনিজগুলো শোষণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া দুধে থাকা কেসিন ও হোয়ি প্রোটিন শরীরের জন্য উপকারী এবং ল্যাক্টোফেরিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই উপকারী খাবার কি সব বয়সের জন্য সমানভাবে নিরাপদ?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, যা ছোট শিশুর পাকস্থলীর জন্য হজম করা কঠিন। ফলে এটি শরীরে ঠিকভাবে গ্রহণ হয় না। এছাড়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গরুর দুধে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে। যাকে বলা হয় কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি। এতে বমি, ডায়রিয়া বা পেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গরুর দুধে থাকা আয়রন শিশুদের শরীরে সহজে শোষিত হয় না। এতে অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি দুধে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় শিশুর কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তবে সাত থেকে আট মাস বয়সের পর অল্প পরিমাণে দই বা ছানার মতো দুগ্ধজাত খাবার দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি দুধ খাওয়ানো নিরাপদ নয়। এক বছরের পর থেকে ধীরে ধীরে শিশুকে গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। শুরুতে দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে দেওয়া ভালো। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দুধে অভ্যস্ত করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক বছরের পরও দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত দুধ খেলে শিশু অন্য খাবার খেতে চায় না, ফলে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক খাদ্য নির্বাচনই পারে তার সুস্থ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে।

নাজমুল গাজী
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







