সংসদে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

 

তিনি বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। বরং একটি অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে সংকটের চিত্র তৈরি করছে। এই চক্র ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং একই সঙ্গে গড়ে তুলছে একটি ইনফরমাল মার্কেট। জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশের জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। পাশাপাশি মেরিন ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিজেলের সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। তবে বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইনের বিষয়টি স্বীকার করলেও মন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তব সংকট নয়। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে, যাতে তারা অবৈধভাবে বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে পারে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি চিহ্নিত করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করে বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।

 

এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই খাতটি বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সরকার সরাসরি মূল্য নির্ধারণ করে না। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।