গাইবান্ধার তপ্ত বালুচর এখন দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ছবিঃ সংগৃহীত
গাইবান্ধার জনশূন্য তপ্ত বালুচর এখন দেশের জ্বালানি খাতের এক নতুন পাওয়ার হাউস। যেখানে একসময় মানুষের আনাগোনা ছিল বিরল, আজ সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৫ লাখ ১৫ হাজার সোলার প্যানেল।
বিশাল এই সোলার মডিউলের মাধ্যমে সূর্যের আলো থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ, যা যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। ৬৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পে প্রতিমাসে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
প্রতিদিন গড়ে ১০০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে এই তিস্তা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একসময় পুরো এলাকাটি ছিল নির্জন চর। চারদিকে শুধু বালু আর শূন্যতা। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু করে বাণিজ্যিক উৎপাদন। প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্র এখন হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী শক্তির অন্যতম উৎস।
একই পরিমাণ বিদ্যুৎ যদি ডিজেল দিয়ে উৎপাদন করা হতো, তবে প্রতি মাসে প্রয়োজন হতো ৮০ থেকে ৯০ লাখ লিটার জ্বালানি। যার খরচ প্রায় ৯ কোটি টাকা। অথচ কোনো জ্বালানি ছাড়াই এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, এই প্রকল্প গড়ে তুলেছে একটি সবুজ পরিবেশও। এলাকাজুড়ে লাগানো হয়েছে হাজারো আম ও লেবু গাছ। পাশাপাশি চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল, আনারসসহ বিভিন্ন ফল।
প্রযুক্তিগতভাবে এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রূপান্তরিত হয়ে উচ্চ ভোল্টেজে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন আট থেকে নয় ঘণ্টার সূর্যালোকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে গ্রিডে।
আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে এই প্রকল্প দেখাচ্ছে এক টেকসই ভবিষ্যতের পথ। তপ্ত বালুচর আর এখন অবহেলিত নয়। এটিই হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









