যুদ্ধবিধ্বস্ত এক নবজাত রাষ্ট্র, শূন্য কোষাগার আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এমন বাস্তবতায় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী তাজউদ্দিন আহমেদ। সেই বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা।

আজকের প্রেক্ষাপটে যা একটি মাঝারি আকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের চেয়েও কম। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজেটও বেড়েছে কয়েকশ গুণ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের ১৪ জন অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা মোট ৫৪টি জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এ দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি ১২টি করে বাজেট পেশ করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ছয়টি এবং আ হ ম মোস্তফা কামাল পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

তবে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস কেবল সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ৫৪টি বাজেটের মধ্যে ১৪টি জাতীয় সংসদের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর আটটি বাজেট পেশ করা হয় পুরোনো সংসদ ভবনে, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে সামরিক শাসন কিংবা তত্ত্বাবধায়ক ও উপদেষ্টা সরকারের সময় ছয়টি বাজেট সংসদের বাইরে উপস্থাপিত হয়।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাজেট ঘোষণা করেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নাগরিকদের অর্থনৈতিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের ব্যয়, কর কাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে।

এবার দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তার প্রথম বাজেট, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মধ্যে আসছে।

নিত্যপণ্যের দাম, জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন বাজেট কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

প্রাইমটিভি/কেআর