ব্যাঙের বিয়ে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের ( আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ) গ্রামাঞ্চলে খরা বা তীব্র তাপদাহের সময় বৃষ্টির কামনায় আয়োজিত একটি জনপ্রিয় লোকজ উৎসব ও প্রাচীন বিশ্বাস। তা ছাড়া বাংলাদেশের দিনাজপুর, রাজশাহী এলাকায় জনপ্রিয় লোকজ রীতি। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে বৃষ্টিপাত না হলে গ্রামের লোকজন তারা বৃষ্টির আশায় এই ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে থাকেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই বিয়েতে বর ও কনে- দুজনেই ছিল ব্যাঙ। এতে কনেপক্ষের দায়িত্বে ছিলেন পুরাতন কলাভবনের এবং বরপক্ষের দায়িত্বে ছিলেন নতুন কলাভবনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

প্রথা অনুযায়ী, একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী ব্যাঙ ধরে বিয়ের সাজে সাজিয়ে, গায়েহলুদ, সাতপাক ঘোরা এবং পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে (সনাতন রীতিতে) এই বিয়ে হয়। ব্যাঙের বিয়ে,তাই বরপক্ষ ৫০০০ দেশি মুদ্রা দিয়েই গেটের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বরের আসনে গিয়ে বসে বরপক্ষ। কিছুক্ষণ পর পুরাতন কলাভবন থেকে কাগজের তৈরি কনে ব্যাঙ নিয়ে মঞ্চে আসে কনেপক্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে তখন শুরু হয় রসিকতা ও সচেতনতামূলক বাক্যবিনিময়। ‎এইসময় বরপক্ষকে মিষ্টিমুখ করাতে দেওয়া হয় মুড়ি-বাতাসা। এরপর পুরোহিত তন্ত্রমন্ত্র পড়ে ব্যাঙের পান-চিনি (বিয়ে) সম্পন্ন করেন।

গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতাই ছিল চোখে পড়ার মতো। কনে সেজে পুরাতন কলাভবনে অপেক্ষায় ছিল নারী ব্যাঙ। অন্যদিকে নতুন কলাভবন থেকে বাদ্য বাজিয়ে বরযাত্রী নিয়ে হাজির হয় পুরুষ ব্যাঙ। এরপর গ্রামবাংলার বিয়ের চিরায়ত রীতি মেনে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে মজার কথা-কাটাকাটি ও হাসি-তামাশা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিপুণ অভিনয়ে পুরো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা জীবন্ত হয়ে ওঠে। বিপুল উৎসাহ আর আনন্দঘন পরিবেশে মহা ধুমধামে সম্পন্ন হয় এই প্রতীকী বিয়ে।

পুরোনো বছরের সব ভালো কিছু স্মরণ করে এবং মন্দ বিষয়গুলো থেকে মুক্ত হয়ে, বৈশাখের প্রথম প্রহরে আমরা নতুন প্রত্যাশায় জীবন শুরু করতে চাই। আমাদের এই লোকজ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি আস্থা সমুন্নত রেখে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের বার্তা যেন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এটাই আমাদের উদাত্ত আহ্বান।