আজকের এই ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিড়ে মানব জীবন যেন দিন দিন আরও যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। এক মুহূর্ত থেমে যদি নিজেকে প্রশ্ন করেন? একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে সর্বশেষ কোন বইটি পড়েছেন? অনেকেই হয়তো উত্তর খুঁজে পাবেন না।

ব্যস্ততার এই দৌড়ে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার সেই চিরচেনা অভ্যাস। তবে আজকের দিনটি একটু ভিন্ন। কারণ আজ ২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি। যার মূল উদ্দেশ্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের সৃষ্টির কপিরাইট সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি করা। এই দিনটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বই কেবল জ্ঞানের উৎস নয়, এটি মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে, নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তাই আজকের দিনটি হতে পারে আবার বইয়ের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি নতুন সূচনা।

বিশ্ব বই দিবসের পেছনেও রয়েছে এক বড় ইতিহাস। এই ধারণাটি প্রথম আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্তে ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল প্রয়াত হন বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক মিগেল দে থের্ভান্তেস। তাকে স্মরণ করেই ১৯২৩ সাল থেকে স্পেনে দিনটি পালন শুরু হয়। পরে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। শরীরকে সুস্থ রাখতে যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে দরকার মানসিক খাদ্য। আর সেই মানসিক খাদ্যের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে বই।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। কারণ, বই পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিয়মিত চর্চা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া বই পড়া মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং কল্পনাশক্তিকে করে আরও সমৃদ্ধ। এটি মানুষকে যুক্তিভিত্তিক চিন্তা করতে শেখায়, মনোযোগ বাড়ায়, এমনকি ভালো ঘুমেও সহায়তা করে। একই সঙ্গে বই মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, সহমর্মী করে তোলে এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বই শুধুই কাগজ আর মলাটে বাঁধা কিছু শব্দ নয়। এটি মানুষের জীবনের এক বিশ্বস্ত সঙ্গী। আপনি যতই বইয়ের কাছে যাবেন, বই ততই আপনার জীবনে আলো ছড়িয়ে দেবে। তাই আজ, বিশ্ব বই দিবসে হয়তো আবার নতুন করে একটি বই হাতে তুলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়।