পবিত্র হজ পালন শেষে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, হজের এই পবিত্র সফর তার জীবনে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবর্তন এনেছে এবং তাকে জাগতিক নানা উদ্বেগ ও আবেগ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেছে।

নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ‘ইশক মুর্শেদ’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, হজ তাকে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের শিক্ষা দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সফর তার আত্মিক শক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

দুরেফিশান জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে হজ পালন করতে পারা তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, হজের প্রথম দিন ‘রমি’ বা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে বাবা-মায়ের উপস্থিতি ও সহযোগিতা তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

হজযাত্রাকে ‘সবর, শুকর ও তাওয়াক্কুলের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই সফর শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আনেনি, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী হাজিদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও করে দিয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী লেখেন, “আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি এবং ক্যাম্পের খাবার ভাগাভাগি করে খেয়েছি। আমরা তাকওয়ার অসাধারণ গল্প শুনেছি এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে ধর্মকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি।”

হজ থেকে পাওয়া আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি জানি না নিজের সঙ্গে কী নিয়ে ফিরছি, কারণ প্রাপ্তির পরিমাণ এত বেশি যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে আমি জানি, কী পেছনে ফেলে যাচ্ছি—জাগতিক চিন্তা, উদ্বেগ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক ভার।”

তিনি আরও লেখেন, “সব ধরনের আবেগের ভার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করাই হজ আমাকে শিখিয়েছে। আমার শরীরজুড়ে ব্যথা থাকলেও মন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত, প্রশান্ত ও পরিপূর্ণ।”

বার্তার শেষে দুরেফিশান বিশ্বের মুসলিমদের জন্য শুভকামনা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন সবাইকে অন্তত একবার এই পবিত্র হজব্রত পালনের তৌফিক দান করা হয়।

দুরেফিশানের এই আবেগঘন বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভক্তরা তার জন্য শুভকামনা জানিয়ে মন্তব্য করছেন এবং তার আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করছেন।

প্রাইমটিভি/কেআর