পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেব্‌ল ও ক্লাউড অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সংবেদনশীল মানচিত্র প্রকাশ করেছে।

 

প্রতিবেদনটিতে হরমুজ প্রণালি-কে শুধু জ্বালানি সরবরাহের পথ নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেব্‌ল করিডর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের ইন্টারনেট সংযোগের প্রধান কেব্‌লগুলো পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য সমুদ্রপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

 

বিশেষ করে আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS) এর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সব মিলিয়ে, জ্বালানি ও সামুদ্রিক পথের পাশাপাশি এবার ডিজিটাল অবকাঠামোও আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন ফ্রন্ট হিসেবে উঠে আসছে।