ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথ কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই নৌ অবরোধ কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তার দাবি, সামরিক হামলার চেয়ে নৌ অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর কৌশল। তিনি আরও বলেন, এই চাপের কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন কঠিন সংকটে পড়েছে এবং পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে।

অন্যদিকে তেহরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ধরনের আলোচনা শুরু করার আগে সব অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে তারা কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

এই উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার পরিণতি শুধু অঞ্চল নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউজ বাজার স্থিতিশীল করতে বিকল্প পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই ভোক্তাদের ওপর পড়তে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক বড় অস্থিরতার নাম, যার পরিণতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।