নতুন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ফক্স নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্রিফিং দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ব্রিফিংয়ে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী’ বিমান হামলার ঢেউ চালানোর পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। একে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনায় ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সম্পদ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল লাঞ্চারগুলো ধ্বংস করতে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক মিসাইল ‘ডার্ক ইগল’ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন হরমূজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে প্রয়োজনে সেখানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সাথে দেখছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বন্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে নৌ-সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অবরোধ ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্যরা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনায় নমনীয় করতে হলে তাদের গ্যাস ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা অপরিহার্য।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও পরমাণু কর্মসূচি ও হরমূজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা হরমূজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বেন না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে না দাঁড়ালে এবং অবরোধ না তুললে সামরিক শক্তি প্রয়োগই হবে একমাত্র পথ।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









