হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় দেশটি’র সহায়তায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। ইরানের জন্য নিজস্ব ভূখণ্ড ব্যবহার করে ছয়টি আনুষ্ঠানিক সড়ক করিডর বা ট্রানজিট রুট চালু করেছে ইসলামাবাদ। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বন্দরগুলো ব্যবহার করে সড়কপথে ইরানে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৫ এপ্রিল ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬ জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে তৃতীয় যে কোনো দেশের পণ্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে সরাসরি ইরানে যেতে পারবে। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান জানান, এই উদ্যোগ পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রানজিট করিডর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং ইরানের পরিবহন ব্যয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনবে।

এই ছয়টি রুট পাকিস্তানের করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদার বন্দরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্ত ক্রসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষ করে গোয়াদার-গাবদ করিডরটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যেখানে যাতায়াতে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের কোনো পণ্য এই ট্রানজিট সুবিধার আওতায় পড়বে না; দেশটির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি বড় স্বস্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ কমানোর এই প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। এদিকে, আফগানিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্যের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।