হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো উদ্ধারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানটি শুরুর দুই দিনের মাথায় স্থগিত হয়ে গেছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সাথে আলোচনার অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভিন্ন কথা।

এনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। সৌদি আরবের এই অনড় অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি আপাতত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প যখন আকস্মিকভাবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর ঘোষণা দেন, তখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বেশ অবাক হয়েছিল। এই ইস্যুতে ট্রাম্প ও সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরবের একটি সূত্র জানিয়েছে, রিয়াদ বর্তমানে পাকিস্তানের চালানো মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক তৎপরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান চায়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ করে দেয়। হোয়াইট হাউজ দাবি করেছিল যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করেই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওমানসহ বেশ কিছু দেশ জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনাগ্রহ এবং আকাশসীমা ব্যবহারে সৌদির আপত্তিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।