বাংলাদেশ ভাবলো উল্কাপিণ্ড, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ভারত

ছবি- সংগৃহীত
ওড়িশা উপকূলে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে ভারত।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এ পরীক্ষা চালায় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাটি ‘অগ্নি-৬’ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দেখায়নি, তবে এটি আইসিবিএম শ্রেণীর ক্ষেপণাস্ত্র।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যখন বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে যায়, তখন এর ইঞ্জিনের শিখা এবং বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে ঘর্ষণে তীব্র আলোর সৃষ্টি হয়। এই আলো এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের আকাশ থেকেও এটি স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। রাতের পরিষ্কার আকাশে হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই একে উল্কা বা ধূমকেতু মনে করেন।
এর আগে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, ভারত আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। ভারত সফলভাবে আইসিবিএম সক্ষমতা অর্জন করলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ তার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ ‘অগ্নি-৬’ নিয়ে জানান, সরকার অনুমতি দিলেই তারা পরবর্তী ধাপে এগোতে প্রস্তুত এবং সব ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জনের অর্থ হলো পারমাণবিক হামলার পাল্টা জবাব দেয়ার সক্ষমতা তৈরি করা, যা প্রতিপক্ষকে প্রথম আঘাত হানার আগে নিরুৎসাহিত করে। একইসঙ্গে এটি জটিল রকেট প্রপালশন, গাইডেন্স সিস্টেম ও পুনঃপ্রবেশ প্রযুক্তিতে দক্ষতারও প্রমাণ।
বর্তমানে রাশিয়ার ‘আরএস-২৮ সারমাত’ ও ‘আর-২৯ আরএমইউ ২.১ লাইনার’ বিশ্বের দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেগুলোর পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি। চীনের ‘ডিএফ-৪১’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের এলজিএম-৩০ জি মিনিটম্যান-৩ এবং উন্নয়নাধীন এলজিএম-৩৫ সেন্টিনেলও আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার সক্ষমতা রাখে। উত্তর কোরিয়াও অতীতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









