ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনায় নিজের বাবার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী দীর্ঘদিনের প্রেমিকের সঙ্গে মিলে পরিবারের অজান্তে ডাকাতির এই পরিকল্পনা করেন এবং ঘটনাটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ মে ভোরে মুরাদাবাদের খ্যাতনামা পিতল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরও নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন ব্যবসায়ী ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং চার সন্তান। ডাকাতির পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক তথ্য পায়। এরপর তদন্তে উঠে আসে, ব্যবসায়ীর মেয়ে আরিবা দীর্ঘ সাত–আট বছর ধরে অমরোহার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

পুলিশের দাবি, ভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক অবস্থানের কারণে পরিবার সম্পর্ক মেনে নেবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা অর্থ লুট করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আরিবা পরিবারের আর্থিক তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং সেই তথ্য তিনি তার প্রেমিকের কাছে পৌঁছে দেন।

এছাড়া ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তিনি বাড়ির মূল ফটকের চাবি প্রেমিকের কাছে হস্তান্তর করেন এবং ঘটনার রাতে ভেতর থেকে ডিজিটাল লক খুলে দিয়ে ডাকাতদের প্রবেশ সহজ করেন বলেও পুলিশের অভিযোগ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসি এবং আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রাইমটিভি/এমএইচ