ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’র  প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার পুনের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই প্রশ্ন ফাঁস মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।

শনিবার (১৬ মে) সিবিআইয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষিকার নাম মনীষা গুরুনাথ মানধারে।

দিল্লির ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) কর্তৃক বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসকদের এই পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

তদন্তকারী সংস্থাটি জানায়, গত এপ্রিল মাসে পুনে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অপর অভিযুক্ত মনীষা ওয়াগমারের মাধ্যমে নিট পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মনীষা গুরুনাথ। এরপর নিজের বাড়িতেই ওই শিক্ষার্থীদের বিশেষ ‘কোচিং ক্লাস’ নেওয়া শুরু করেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, এনটিএ-এর বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুবাদে পরীক্ষার আগেই উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেন এবং সেগুলো খাতায় ও পাঠ্যবইয়ে দাগিয়ে দেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তার দেওয়া প্রশ্নগুলোর হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ছয়টি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু অপরাধমূলক নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এই জিনিসগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত দিল্লি, জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে ও আহলিয়ানগর থেকে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুনে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সিবিআইয়ের তদন্তে ইতিমধ্যে রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের মূল উৎস এবং সেই মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের সন্ধান মিলেছে, যারা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ ক্লাসে নিয়ে আসত। এই গোপন ক্লাসেই মূলত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হতো এবং শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করানো হতো।

এর আগে গতকাল শুক্রবার এই চক্রের মূল হোতা পি ভি কুলকার্নিকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। কুলকার্নি পেশায় একজন রসায়নের প্রভাষক এবং তিনিও এনটিএ-এর পক্ষ থেকে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সেই সুবাদে নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রে তার প্রবেশাধিকার ছিল।

তদন্তে জানা গেছে, গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কুলকার্নি ও মনীষা ওয়াগমারে পুনের একটি বাড়িতে বাছাই করা কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ কোচিংয়ের আয়োজন করেন।

সিবিআই জানায়, "ওই ক্লাসে কুলকার্নি অপশন ও সঠিক উত্তরসহ প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের বলে দিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা খাতায় যেভাবে প্রশ্নগুলো লিখে নিয়েছিল, তার সঙ্গে ৩ মে অনুষ্ঠিত রসায়নের মূল প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।"

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উচ্চশিক্ষা বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ মে সিবিআই এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

প্রাইমটিভি/আআ