ভোজশালা মসজিদের পর এবার মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো কামাল মাওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করেছে ভারতীয় আদালত। ওই স্থানে মসজিদের আগে একটি মন্দির ছিল—এমন দাবি তুলে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এই রায় বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

কামাল মাওলা মসজিদে গত ৫০ বছর ধরে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক। এরআগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে তার দাদা হাফিজ নাজিরুদ্দিনও কামাল মাওলা মসজিদে নামাজ পড়াতেন।

তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ভোজশালা কমপ্লেক্সের এই মসজিদটি বর্তমানে রফিক ধার ও মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ স্থানে পরিণত হয়েছে।

ধার শহরে অবস্থিত কামাল মাওলা মসজিদ একমাত্র উদাহরণ নয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা দাবি তুলছে যে, কোনো না কোনো মসজিদ এক সময়ের মন্দিরের ওপর নির্মিত। তাই মসজিদগুলোকে মন্দির ঘোষণা করতে হবে।

34ac7658-4f3e-4f3b-93e6-ef7914281fc6

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রচারণা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্বের সাত আশ্চর্যের একটি তাজমহলও ইসলামী যুগের স্থাপনার নিচে মন্দিরের উৎস আছে এমন দাবী হিন্দুত্ববাদীদের।

যদিও তাজমহল মসজিদ নয়, বরং একটি সমাধিসৌধ। তবুও ১৭ শতকের মুঘল ঐতিহ্যের কারণে এটিকেও বিতর্কের বিষয় করা হয়েছে।

কামাল মাওলা মসজিদের মুয়াজ্জিন রফিক বলেন, “গত শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদ আমাদেরই ছিল। কিন্তু আজ আর তা নেই। আমি স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে।”

স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠনের আহ্বায়ক গোপাল শর্মা আল জাজিরাকে বলেন, “৭২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা দেবীর মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছি। যাকে ইসলামিক শাসকরা অপমান করেছিল এবং মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, ১৩০০-এর দশকে কোনো মুসলিম শাসক তাদের মন্দিরটি ধ্বংস করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন ঐতিহাসিক দলিল খুঁজে পায়নি আল জাজিরা ।


প্রাইমটিভি/এমএইচ