যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ঘিরে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিরোধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৫ মে) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭১ ডলার বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৪ দশমিক ৫৭ ডলার বা ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়। সেশনের শুরুতেই উভয় বাজার মে মাসের সাত তারিখের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও ইরান একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আলোচনা শেষ করেছে। এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাতের আগে এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হতো।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি তার প্রতিনিধিদের কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও গ্যাস অবকাঠামো মেরামত করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।

প্রাইমটিভি/এনজি