মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার ওমানকে কার্যত হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ওমানকে “ভদ্র আচরণ” করতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন তিনি।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওমান অন্য সবার মতোই আচরণ করবে, নইলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। তারা এটা বোঝে। তারা ঠিক থাকবে।”

তবে কী কারণে ট্রাম্প ওমানকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে করা অনুরোধেরও কোনো জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। উল্লেখ্য, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ওমান।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে ওমান। যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এটি তেহরানের অন্যতম দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ওমানের একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা। কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর ওপর নজরদারি চালাবে।”

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই, তবে হব। না হলে আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে শুরু করেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরান চায় একটি চুক্তি হোক, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তারা শেষ ভরসা নিয়ে আলোচনা করছে। দেখা যাক কী হয়।”

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত চীন বা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “না, এতে আমি স্বস্তি পাব না।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাইমটিভি/কেআর