ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, রয়টার্স ও আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে চার সেনা নিহত হওয়ার পর উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ফেলা উচিত।”

আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, “প্রতিটি ইসরায়েলি মায়ের চোখের এক ফোঁটা অশ্রুর জন্য হাজারো লেবাননি মাকে কাঁদতে হবে।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পরই এসব মন্তব্য করেন বেন গভির।

তিনি দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান এবং রাজধানী বৈরুতে হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংযমের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

একই সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “এটি একটি কঠিন সকাল। এখন আগুনের ভাষায় কথা বলার সময়, নরকের দরজা খুলে দেওয়ার সময়।”

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেননি।

যদিও উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এই যুদ্ধবিরতি কতদিন কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ