স্বচ্ছতা বা (Transparency) এখনকার সময়ে একটি নিরব ব্যাধি। বিশেষ করে যেকোনো সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরী। স্বচ্ছতা কমে যাওয়া একটি নীরব সামাজিক সংকেত, যা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে খোলামেলা ও সৎ যোগাযোগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বড় একটি কারণ। বর্তমানে তরুণরা বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় ব্যয় করছে। এখানে তারা নিজেদের একটি পারফেক্ট ইমেজ তুলে ধরতে আগ্রহী, যা অনেক সময় বাস্তবতার সাথে মেলে না। ফলে নিজের দুর্বলতা বা সমস্যাগুলো গোপন রাখার প্রবণতা বাড়ছে, যা স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করছে। এখনকার জেনারেশন শো অফ করতে বেশি পছন্দ করে। নিজেদের যা আছে তার থেকেও বেশি সামাজিক মাধ্যমে দেখাতে পছন্দ করে।

সময়ের সাথে বদলাচ্ছে তরুণ সমাজের চিন্ত-ভাবনা, আচরণ এবং যোগাযোগের ধরন। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণদের মধ্যে স্বচ্ছতা কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

প্রতিযোগিতামূলক জীবনধারা তরুণদের ওপর মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে ক্রমাগত চাপের কারণে অনেকেই নিজের প্রকৃত অবস্থা বা ব্যর্থতা প্রকাশ করতে ভয় পায়। তারা মনে করে, সব কিছু প্রকাশ করলে নিজেদের দুর্বল ভাবা হবে। এই ভয় থেকেই স্বচ্ছতা কমে যাচ্ছে।

পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগের ঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগের মতো পরিবারে খোলামেলা আলোচনা কমে গেছে।বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে অনেক সময় বাচ্চাদের ঠিকমত সময় দিতে পারে নাহ। এর ফলে বাবা-মার সাথে বাড়ে দূরত্ব। যার ফলে অনেক তরুণই তাদের সমস্যা বা অনুভূতি পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। ফলে তারা নিজেদের ভেতরে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখে।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সচেতনতা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তা অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষার প্রবণতা থেকে অনেকেই প্রয়োজনীয় বিষয়ও শেয়ার করতে চায় না, যা স্বচ্ছতার অভাব তৈরি করছে।

তরুণদের মধ্যে স্বচ্ছতা বাড়াতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। খোলামেলা আলোচনা, মানসিক সহায়তা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।