মানুষ অন্যের পেছনে লাগা, পরনিন্দা করা বা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক কারণ রয়েছে। এটি সাধারণত কোনো সুস্থ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নয়।

হীনম্মন্যতা ও হিংসাবোধ

যখন কেউ নিজের জীবনে অসন্তুষ্ট থাকে বা নিজেকে অন্যের চেয়ে কম সফল মনে করে, তখন তার মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। অন্যের সাফল্য বা খুশি সে সহ্য করতে পারে না। নিজের খামতিগুলো ঢাকার জন্য সে তখন অন্যের খুঁত খুঁজতে শুরু করে এবং তার পেছনে লাগে।

 নিজস্ব অহংকার ও আধিপত্য বিস্তার

অনেকে নিজেকে সবার চেয়ে সেরা বা ক্ষমতাবান প্রমাণ করতে চায়। অন্যকে ছোট করে বা অন্যের মানহানি করে তারা এক ধরণের সস্তা মানসিক আনন্দ এবং আত্মতৃপ্তি পায়। অন্যের পেছনে লেগে তাদেরকে নিচে নামিয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখাই এদের লক্ষ্য থাকে।

মনোযোগ আকর্ষণ ও ঈর্ষা

কিছু মানুষের স্বভাবই থাকে নেতিবাচক উপায়ে অন্যের মনোযোগ কাড়া। তারা যখন নিজের কোনো ভালো কাজ দিয়ে মানুষের নজরে আসতে পারে না, তখন অন্যের সমালোচনা বা ক্ষতি করে সস্তা জনপ্রিয়তার চেষ্টা করে।

অলসতা ও গঠনমূলক কাজের অভাব

যাদের জীবনে নিজস্ব কোনো বড় লক্ষ্য, ব্যস্ততা বা গঠনমূলক কাজ নেই, তারা অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি মাথা ঘামায়। নিজেদের জীবনকে উন্নত করার চেয়ে অন্যের জীবনে নাক গলানো তাদের কাছে সহজ সময় কাটানোর মাধ্যম মনে হয়।

মানসিক জটিলতা ও প্রতিশোধস্পৃহা

অন্যের পেছনে লাগা মানুষেরা আসলে দিনশেষে নিজেদের মানসিক অশান্তি ও দুর্বলতাই প্রকাশ করে। এই ধরণের মানুষদের এড়িয়ে চলে নিজের কাজে মনোনিবেশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ক্ষোভ, শত্রুতা বা কোনো বিষয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা থেকেও মানুষ অন্যের পেছনে লাগতে পারে। এছাড়া অনেকের ব্যক্তিত্বে সমস্যা থাকে (যেমন: নার্সিসিজম) যার কারণে তারা অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়।

প্রাইমটিভি/বিএম