২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে পারলেও নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন তিনি এবং ওই রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার এই কৃতি সন্তানের অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সমাজসেবা ক্ষেত্রে মরণোত্তর এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

দেশের জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম—মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রয়াত শিক্ষিকা মাহেরীন। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন স্বামী মনসুর হেলাল।

পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "মাহেরীন চৌধুরীর মতো মানুষেরা আমাদের সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের আত্মত্যাগ আগামীর বাংলাদেশকে পথ দেখাবে।

এবারের তালিকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পদক পেয়েছেন: মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর) ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, হানিফ সংকেত, বশীর আহমেদ (মরণোত্তর) ও আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, অধ্যাপক জহুরুল করিম এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের মুকিত মজুমদার বাবু।

উল্লেখ্য, পুরস্কারপ্রাপ্তদের আঠারো ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, সনদপত্র ও সম্মানি চেক প্রদান করা হয়।