দেশে অনলাইন জুয়া, অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির নামে প্রতারণা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ইভ্যালি ও ডেসটিনির মতো বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ক্ষত এখনও না শুকাতেই ‘বুলসাউক’ (BullSouq) নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

কপি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার তরুণকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করছে একটি চক্র। শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হয়। এরপর বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করে সব টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

‘তৌহিদ-ইমন’ সিন্ডিকেটের কার্যক্রম

তৌহিদ নামের এক ব্যক্তি এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন। তার সাথে ইমন মিয়াজী, নাহিয়ানসহ একটি বড় নেটওয়ার্ক জড়িত। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ফেনীকে কেন্দ্র করে এই চক্রের সদস্যরা দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সক্রিয়।

card

এরা বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে এবং ভুয়া নিবন্ধিত সিম কার্ড ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ফরেক্স ট্রেডিং আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব চক্র মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস—যেমন বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

‘বাংলাদেশ ইনভেস্টর এলায়েন্স’ নামের একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই প্রতারণা ডেসটিনির চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ইমন মিয়াজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বুলসাউকের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও প্রতারণার অভিযোগ এড়িয়ে যান।

প্রতারণার এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তারা বিষয়টি দেখছে। র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতারণামূলক এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা হলেও তারা নাম পরিবর্তন করে আবার ফিরে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অতি লোভনীয় অফার থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো বিনিয়োগের আগে যাচাই-বাছাই এবং সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।