নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা, দুই বোন ও ভাগনেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ কথা জানান।পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ড কোন ডাকাতি বা দস্যুতা ওই রকম ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে। যে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে তার কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

 পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) ও তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

 পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

 নিহত হাবিবুরের পিতা নমির উদ্দিনকে ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুরের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে তার কথাবার্তা সন্দেহ হলে পুলিশ নমির উদ্দিনকে জিজ্ঞেসবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে। 

 নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের শিকার পপি সুলতানার মা সাবিনা বিবি অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে ভগ্নিপতি ও বোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আড়াই বিঘা জমি দেওয়ার পরও ভগ্নিপতি ও বোনরা আরও সম্পত্তি চান। তাদের চাহিদা মতো না দেয়ায় এই হত্যা করা হয়েছে।