আজ দেশের আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লু মুন’

‘ব্লু মুন’ । সংগৃহীত
আজ ৩১ মে রাতের আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ‘ব্লু মুন’। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ খালি চোখেই উপভোগ করতে পারবেন এই দৃশ্য। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, আজকের পর ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আর কোনো ব্লু মুন দেখা যাবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ব্লু মুন’ বলতে নীল রঙের চাঁদকে বোঝায় না। একই ইংরেজি ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে ব্লু মুন বলা হয়। চাঁদের আবর্তনকাল প্রায় ২৯ দশমিক ৫ দিন হওয়ায় প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর এমন ঘটনা ঘটে।
তবে এর নাম ব্লু মুন হলেও চাঁদ তার স্বাভাবিক রুপালি বা সোনালি আভাতেই দেখা যাবে। কিন্তু ইতিহাসে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে নীলাভ চাঁদও দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৮৮৩ সালের ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার কারণে চাঁদ নীলাভ দেখায়।
এবারের ব্লু মুনের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এটি একই সঙ্গে একটি ‘মাইক্রো মুন’। চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের অবস্থানের কাছাকাছি থেকে পূর্ণিমায় পরিণত হয়, তখন তাকে মাইক্রো মুন বলা হয়।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের পূর্ণিমায় চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ফলে এটি স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় আকারে প্রায় ১০ শতাংশ ছোট দেখাতে পারে। তবে খালি চোখে এ পার্থক্য খুব বেশি বোঝা যাবে না।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চাঁদ ওঠার সময় দিগন্তের কাছে এটি কমলা বা সোনালি আভাযুক্ত দেখা যেতে পারে। পরে আকাশের আরও ওপরে উঠলে চাঁদ তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল সাদা রূপ ধারণ করবে।
বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আজ রাতেই ব্লু মুনকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও পূর্ণ অবস্থায় দেখা যাবে। তাই পরিষ্কার আকাশ থাকলে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে এক বিরল অভিজ্ঞতা।
প্রাইমটিভি/এনজি







