স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেওয়ার পুরোনো বিতর্ক আবারও জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। বুধবার সংসদে এ প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ কিছু করছেন।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি। বরং বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কক্সবাজারে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতির মধ্যে যে গাড়িতে উঠেছিলেন, পরে সেটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় সমর্থকেরা তাঁকে একাধিক গাড়ি বদল করে নিয়ে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট গাড়িটি বহু পুরোনো এবং সেটি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল তার বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এটি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর চারটি গাড়ি ও চারজন চালক রয়েছে।

এ সময় নজিবুর রহমানের মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পের অর্থ জামায়াতে ইসলামীর কাছে গেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের দিনের বক্তব্যকে ‘অসত্য’ দাবি করেছেন নজিবুর রহমান।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দুই দফায় ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অডিট রিপোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে আরডিএস প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা।

নজিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানালেও স্পিকার বলেন, আগের দিনের কোনো বিষয় পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় আনা যায় না। তবে প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রাইমটিভি/এনজি