জনদাবির মুখে দখলমুক্ত হলো নিকুঞ্জের খেলার মাঠ

নিকুঞ্জের খেলার মাঠ
প্রায় এক বছর ধরে চলা বিতর্ক, এলাকাবাসীর ধারাবাহিক আন্দোলন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত একের পর এক প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক তৎপরতার পর অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ। গত সোমবার পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে শুধু মাঠের ভেতরের বিতর্কিত স্থাপনাই নয়, নিকুঞ্জের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও জনপরিসর থেকেও অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় আবারও দখলদারিত্ব ফিরে আসার চেষ্টা হতে পারে।
সন্ধ্যার পর মাঠে এখন আবার দেখা যাচ্ছে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, কিশোরদের ক্রিকেট-ফুটবল আর তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্য। অনেক দিন পর মাঠের চারপাশে ফিরেছে সেই পরিচিত প্রাণের স্পন্দন, যা একসময় নিকুঞ্জের সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে মাঠের উত্তর পাশের একটি বড় অংশজুড়ে ফুড কোর্টের নামে অসংখ্য দোকান ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনস্বার্থ উপেক্ষা করে একটি চক্র মাঠের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এর ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে।
এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি জনপরিসরে আলোচিত হয়।

এর আগে একাধিক উচ্ছেদ উদ্যোগ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে সর্বশেষ গত সোমবার প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে মাঠের ভেতরের বিতর্কিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে নিকুঞ্জের বিভিন্ন সড়ক ও জনপরিসরে গড়ে ওঠা অবৈধ দখলও উচ্ছেদ করা হয়।
‘মাঠ ফিরে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’
নিকুঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা সজল করিম বলেন, “এই মাঠটা শুধু খেলার জায়গা নয়, এটি আমাদের এলাকার প্রাণ। এখানে শিশুদের বেড়ে ওঠা, তরুণদের বিকাশ এবং মানুষের সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের অবস্থা দেখে কষ্ট পেয়েছি। আজ মাঠ ফিরে পাওয়ার আনন্দ সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” তিনি বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোনো অজুহাতে আবার মাঠের চরিত্র বদলে দেওয়া হোক।”
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








