চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে ১ হাজার ৩৫ নারী ও মেয়ে শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ জন ধর্ষণ, ৬৫ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ১৮ জন ধর্ষণের পর হত্যা এবং ৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকার জন্য তাদের পুরস্কৃত করার সুপারিশ করেন তিনি।

সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বা ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলোর বাইরে সব ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনের অভাব নেই। তবে চ্যালেঞ্জ রয়েছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে।

তিনি নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করাও জরুরি। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রাইমটিভি/এনজি