রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় ও তার আগেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।

জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই চাপ উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যায় এবং নিজেদের অবস্থানে অটল থাকে।

১৮ জুলাই শিক্ষার্থীরা কলেজে আসার খবর পাওয়ার পর কলেজের গেইট বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের চাপে পরবর্তীতে গেইট খুলে দেওয়া হলেও আজহার শিক্ষকদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি দিতে বাধা দেন। পরবর্তীতে ক্যান্টিনের গেইটেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সহায়তা না পায়। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা কিছু কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে শোকজ নোটিশের ভয়ও দেখানো হতো।

জুলাই আন্দোলনের বহু আগেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এসব বিষয় নিয়ে নাগরিক টিভিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের অনেকগুলোই জনসমক্ষে আলোচনার সুযোগ হারায়।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা, ভীতি প্রদর্শন, শোকজের হুমকি এবং নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদন সরিয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে আজহারের নাম রাজউকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের পর তাকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রায় আট মাস পর পুনরায় কলেজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নতুন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দেয় এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়।

প্রাইমটিভি/এমএইচ