চাঁদা দাবির অভিযোগে গণপিটুনির পর বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত

ছবি- সংগৃহীত
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে গণপিটুনির ঘটনার পর বিএনপির দুই নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন জাকির মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক। বালু ব্যবসা পরিচালনার জন্য ওই অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে জাকির মোল্লাকে রেইনট্রিতলা এলাকায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ধরেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা ওই দুই নেতাকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাকির মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির দুই নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপিতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান নেই। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে অভিযুক্ত জাকির মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা চাঁদা দাবি করিনি। আমরা বালু ব্যবসায় অংশীদার হতে চেয়েছিলাম। আমাদের ডেকে এনে ফাঁসানো হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাইমটিভি/কেআর

জেলা প্রতিনিধি
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








