আমের চেয়ে বাড়তি খরচ প্যাকেজিংয়ে, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

আম প্যাকেজিংয়ে বাড়তি খরচ । সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে। আমের দাম কম থাকার পাশাপাশি বেড়েছে প্যাকেজিং ও পরিবহন খরচ। ফলে লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ক্যারেট, বস্তা, কাগজ ও শ্রমিক খরচে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপরও।
ভরা মৌসুমে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় আম সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে ভালো ফলন সত্ত্বেও বাজারে আমের দাম তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্যাকেজিং সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, অফ-সিজনে যে ক্যারেট ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যায়, মৌসুমে তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়। ঢাকা, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন বড় আড়তে আম পাঠাতে প্যাকেজিং, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ করে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।
একই সংকটে পড়েছেন অনলাইন উদ্যোক্তারাও। তাদের ভাষ্য, ক্যারেট ও প্যাকেজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আমের বিপণন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০০ টাকার আম গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে খরচ হয়ে যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যে খালি বস্তা ২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ক্যারেটসহ আম প্যাকেটজাত ও সেলাই করতে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ফলে বাজারজাতকরণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগও অতিরিক্ত বাজারজাতকরণ ব্যয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার বলেন, সরকারিভাবে ডাক বিভাগের মাধ্যমে মাত্র ৫ টাকা কেজি খরচে আম পরিবহনের সুযোগ চালু হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা গেলে কৃষকরা কম খরচে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করতে পারবেন এবং এতে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন।
তবে সরকারি সুবিধা চালু হলেও বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চ পরিবহন ও প্যাকেজিং খরচের কারণে এখনো চরম সংকটে রয়েছেন সাতক্ষীরার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
প্রাইমটিভি/এনজি

জেলা প্রতিনিধি
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






