সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরই মধ্যে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে কোম্পানীগঞ্জের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে নৌকা চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে প্রশাসন।

রোববার (২১ জুন) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, সকাল থেকে সাদাপাথর এলাকায় পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌকা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও নৌকা চলাচল শুরু হবে।

পাহাড়ি ঢলের কারণে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের কয়েকটি ভাসমান দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্র পানিতে ভেসে গেছে বলেও জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ২৫ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই সময়ে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি ছিল ৯ দশমিক ৩৯ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৪৫ মিটার। পিয়ান নদের জাফলং পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৮০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ মিটার। লোভাছড়া ও ধলাই নদীতেও পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢলজনিত বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাইমটিভি/এনজি