ইরানের এক ঘোষণায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মিলেছে স্বস্তির ইঙ্গিত। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্যসম্পূর্ণ উন্মুক্তরাখার কথা জানিয়েছে ইরান।

এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে এসেছে ৮৮ ডলারে, যা একদিন আগেও ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে। বিশ্বের মোট তেল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ সচল থাকাটা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। এই ঘোষণার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে দশমিক শতাংশ, ইউরোপের বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তবে পুরো পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো বলছে, সমুদ্রপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেল গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়ে দাম একসময় ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে কয়েক মাস। তাই আপাতত তেলের দাম কমলেও, ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব দ্রুত পড়বে এমন আশা কম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে স্বস্তি আনলেও, অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।