হরমুজ ঘিরে চরম উত্তেজনা, ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হচ্ছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর এবার লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বন্দর অবরোধের পরিকল্পনার জবাবে ইরান লোহিত সাগরের নৌপথও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য ব্যাপক চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। রিয়াদের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বন্দর অবরোধ করা হলে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোতে বিঘ্ন ঘটাবে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি আরব বর্তমানে মরুভূমি পেরিয়ে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। কিন্তু ইরান যদি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের এই শেষ বিকল্পটিও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়বে দেশটির অর্থনীতি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা বাব আল-মান্দেবকে হরমুজের মতোই গুরুত্ব দেন। এক হুশিয়ারিতে তিনি বলেন, "হোয়াইট হাউস ভুল করলে খুব দ্রুত বুঝতে পারবে এক ইশারাতেই বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত করা সম্ভব।" এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ওই অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে সোমবার থেকেই ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে বদ্ধপরিকর এবং উপসাগরীয় মিত্ররা তাদের সঙ্গেই আছে। যদিও সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থান ওয়াশিংটনের এই দাবির সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক।
নিউ আমেরিকার বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ব্যারনের মতে, লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটাতে ইরান হুথিদের ব্যবহার করবে, যারা ইতিমধ্যেই তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই পথগুলো এখন বড় ধরনের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের মধ্যস্থতা এবং আলোচনার আহ্বান ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করে কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের দিকে ধাবিত হয়।

Khalid Robin
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









