লোকসভায় সংশোধনী বিল পাস না হওয়ায় মোদি সরকারের বড় ধাক্কা

ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতের লোকসভায় নারী আসন সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল পাস না হওয়ায় বড় ধাক্কা খেল নরেন্দ্র মোদি সরকার। গত ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো আইন সরাসরি সংসদে পরাজয়ের মুখ দেখলো তাদের সরকার।
শুক্রবার একজোটে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শেষ মুহূর্তের ‘বিবেক অনুযায়ী ভোট’ দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়, যেখানে প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টি যুক্ত করার কথা ছিল। ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট, বিপক্ষে ২৩২। তবে পাস হতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩৫২টি সমর্থন। ফলে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি।
বিরোধীদের অভিযোগ, ২০২৯ সাল থেকে নারী সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এই বিল আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনি মানচিত্র পুনর্গঠন এবং জাতিগত গণনা বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং সামান্য বাড়বে। পাশাপাশি সরকার জাতিগত গণনা করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
এদিকে বিলটি পাস না হওয়ায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল প্রত্যাহার করা হবে। এর মধ্যে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত একটি বিলও রয়েছে। ভোটের আগে আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজের বিবেকের কথা ভাবুন এবং পরিবারের নারীদের কথা স্মরণ করে এই বিলের পক্ষে দাঁড়ান। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম থাকা উচিত নয়।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই বিলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি নারী সংরক্ষণের বিল নয়, বরং দেশের নির্বাচনি কাঠামো বদলের একটি চেষ্টা। দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই উদ্যোগকে তিনি দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। বাজেট অধিবেশনের বর্ধিত সময়সীমার শেষ দিনে সংসদ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









