মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় মার্কিন রাজনীতিতে বইছে সমালোচনার ঝড়। সম্প্রতি সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি ও কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হ্যারিস বলেন, আমেরিকার সাধারণ মানুষ যুদ্ধ চায় না। অথচ ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে দেশকে নিয়ে গেছেন যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জীবন আজ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। তার মতে, নেতানিয়াহুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়েই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হ্যারিসের মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইসরায়েলকে মহান ও সাহসী মিত্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি লেখেন, কঠিন সময়ে ইসরায়েল তার আনুগত্য ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তারা জানে কীভাবে লড়তে হয় এবং জয়ী হতে হয়।

উল্লেখ্য, জো বাইডেন প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কমলা হ্যারিস গত নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। তবে রাজনীতি থেকে তিনি যে দূরে সরে যাননি, তা স্পষ্ট। ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। হ্যারিস বিশ্বাস করেন, খুব শীঘ্রই হোয়াইট হাউস একজন নারী প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নেবে। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে তার এই জোরালো অবস্থান আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।