অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে

ছবি- সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অনুসরণ করা কঠোর শান্তিবাদী নীতি থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটিয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থাকা কয়েক দশকের পুরনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়।
এতদিন জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী কেবল পাঁচটি শ্রেণির অ-প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করতো। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে জাপান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাস্ত্র বিদেশে বিক্রি করতে পারবে।
অনুমোদনকৃত রপ্তানিযোগ্য সরঞ্জামগুলো হলো- যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানের তৈরি এই অস্ত্রগুলো কেনার সুযোগ পাবে। কেবল সেই সব দেশই এই অস্ত্র পাবে যারা জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী এর সঠিক ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেবে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে জানান, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো দেশের পক্ষেই একা শান্তি রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মোকাবিলায় জাপানের এই কৌশলগত পরিবর্তন অপরিহার্য ছিল।
জাপানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাপান ইতোমধ্যেই সামরিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি সাধন করেছে। ইতিমধ্যে জাপানি কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই যুদ্ধজাহাজটি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
১৯৬৭ সাল থেকে জাপান অস্ত্র রপ্তানিতে অত্যন্ত সংযত নীতি মেনে আসছিল। যদিও নতুন নীতিতেও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি কর্তৃক ইয়াসুকুনি শ্রাইনে ধর্মীয় উৎসর্গ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এই মন্দিরটিকে জাপানের পুরনো সামরিক আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে দেখে, কারণ সেখানে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদেরও স্মরণ করা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জাপানের অস্ত্র রপ্তানি নীতি শিথিল করা এশিয়ায় নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









